সয়াবিন তেল


সয়াবিন তেল বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত ভোজ্যতেল।
তবে এই তেলটি বিদেশ হতে আমদানীকৃত।যা’ রিফাইন করে বিভিন্ন আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান তাদের স্ব স্ব ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করছে।
মূলতঃ স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে এদেশের মানুষ সোয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল এর সাথে পরিচিত হয়।কিন্তু তার আগে বহুল ব্যবহৃত ভোজ্য তেল হিসাবে জনপ্রিয় ছিল সরিষার তেল,বাদাম তেল,তিলের তেল,নারিকেল তেল ও ডালডা এবং ঘি।
আমরা একটা সময় পরে এসে দেখলাম বিশেষ রান্নায় সরিষা,বাটার ওয়েল, ঘি ব্যবহৃত হলেও বাদাম তেল,তিলের তেল, নারিকেল তেল ও ডালডা দিয়ে রান্নার চল নেই বল্লেই চলে।
ঘরে ঘরে সোয়াবিন তেল ও পাম ওয়েল ব্যবহৃত হচ্ছে।
অন্য দিকে অনেক পরিবার ভোজ্য তেল হিসাবে উচ্চ মূল্যে রাইসবার্ন ওয়েল,সূর্যমুখী তেল,কেনোলা তেল,অলিভ অয়েল ব্যবহার করে আসছে।
সাধারন মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মধ্যে এখন প্রধান একটি সামগ্রী হলো সোয়াবিন তেল।
ঈদের দু’-তিনদিন আগ থেকে হঠাৎ করে বাজার হতে উধাও হয়ে গেলো সোয়াবিন তেল।একটা হাহাকার চারিদিকে।দোকানীরা রেশনিং পদ্ধতিতে তাদের নিয়মিত ক্রেতাদের তেল সরবরাহ করলেও সাধারন ক্রেতা তেল পাচ্ছিল না।আর পেলেও তা ‘ছিল উচ্চ মূল্যে।
এদিকে উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে সরকার লিটার প্রতি সোয়াবিন তেলের দাম ১৯৮ টাকা নির্ধারন করে দিয়েছে।
জানি না আমাদের কপালে কি আছে।
বাজারে গেলে নাভিশ্বাস উঠে যাওয়ার অবস্থা।এখন গরুর মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি আর খাসীর মাংস ১০০০ টাকা।অন্যদিকে বিভিন্ন সব্জির কেজি ৭০-৮০ থেকে ১০০ টাকা ছুঁয়ে গেছে।চাল, ডাল,মাছ ও মসল্লার কথা নাই বা বল্লাম।
অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাসা ভাড়া, যাতায়াত ভাড়া।বিদ্যু-গ্যাসের দামও হয়তো বেড়ে যাবে।এখন ভাবছি আমাদের মতো আম জনতার কি হবে?
কি ভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করে আমরা আমাদের প্রাত্যাহিক জীবন অতিবাহিত করবো,তা’ভেবে কূল-কিনারা পাচ্ছি না।
করোনা মহামারী,ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ
পুরো পৃথিবী জুড়ে অর্থনীতি আজ চাপের মুখে।
কি হবে আমাদের আগামী সময়ে?

বাপি আতিক, ঢাকা।