বছরজুড়ে শীতকালীন সবজি চাষ ক্রেতাদের চাহিদা থাকায় চাষে আগ্রহী রাজশাহীর কৃষকরা


রাজশাহী প্রতিনিধি
লাভ হওয়ায় রাজশাহীতে এখন বছরজুড়ে শীতের সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। বাজারে এসব সবজির চাহিদা থাকায় দামও পাচ্ছেন কৃষকরা। অসময়ের এসব সবজিতে ¯^াদ না থাকলেও ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা বেশি। তাই কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষ করতে বেশি আগ্রহী।
রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষিকে বছরে তিন ভাগে বিভক্ত করে রাজশাহীতে সবজি চাষ করা হয়। ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত রবি মৌসুম, ১৬ মার্চ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত খরিপ-১, ১৬ জুলাই থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত খরিপ-২। আগে ১৬ অক্টোর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত শীতকালীন সবজি চাষ করা হলেও এখনও বেশি লাভের আশায় নতুন জাতের সবজি চাষ করা হয়। এতে করে সারাবছরই শীতকালীন সবজি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। খরিপ-২ মানে গ্রীষ্মকালীন সময়ে রাজশাহী জেলায় সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২৬৬ হেক্টর জমি। এরমধ্যে শীতকালীন সবজি ফুল কপি ৩৬ হেক্টর, বাঁধা কপি ৪০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। পবা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সবজি আবাদ হয়।
রাজশাহী নগরীতে ফেরি করে সবজি বিক্রি করেন পবা উপজেলার জমসেদ আলী। তিনি বলেন, এখন সবজির জন্য শীতের অপেক্ষায় থাকতে হয় না। সারাবছরই কৃষকরা শীতের সবজি চাষাবাদ করছেন। এতে করে বাজারেও অসময়ে শীতের সবজি আমরা বিক্রি করি।
রাজশাহীর বাজারে প্রায় সারাবছরই শীতের সবজি পাওয়ায় যায়। মৌসুম ছাড়া প্রতিকেজি সিম ১২০ টাকা, মুলা ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০ টাকা, ফুলকপি ১০০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৩০ টাকা করে বিক্রি করেছি। তবে বর্তমান প্রতি পিস ফুলকপি ৩০-৪০ টাকা এবং বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক শামসুল হক বলেন, সময়ের সবজি সময়ে খেলে ¯^াদ পাওয়া যাবে। তবে এখন শীতের সবজি সারাবছরই চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষকরাও একটু বেশি দামের আশায় চাষাবাদ করছেন। অসময়ে ফলন একটু কম হচ্ছে। তবে ¯^াস্থ্যের জন্য এটা খারাপ না।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মুরালীপুর এলাকার প্রবীণ কৃষক লোকমান আলী বলেন, আমার বাঁধাকপির বয়স প্রায় দেড় মাস। কিছু দিনের মধ্যেই ফুল বাঁধতে শুরু করবে। এক মাসের মধ্যেই হয়তো কপি বিক্রি করতে পারবো। গতবার খুব বেশি লাভ করতে পারিনি। অনেকে তো খরচের টাকাও তুলতে পারেনি। এবার অগ্রিম কপির আবাদ করেছি। যদি আগে কপি তুলতে পারি তাহলে লাভ হবেই।
পবার দর্শনপাড়া এলাকার তরুণ কৃষক সাইমুর রহমান সাইম বলেন, তিন বিঘার মতো জমিতে কপির আবাদ আছে। কিছু জমি নিজের আর কিছু লিজ নিয়েছি। গত বছরও প্রায় তিন বিঘার মতো কপির আবাদ করেছিলাম। দামও ভালো পেয়েছিলাম। বাকি দুই বিঘা জমিতে কপি চাষ করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারিনি। কিছু কপি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আর বাকিগুলো দাম পাইনি। সব মিলিয়ে বলা যায় উৎপাদন খরচটা কোনও মতে উঠেছিল। এবার আলুতে অনেক টাকা খরচ করেছিলাম। কিন্তু আলুর দাম পায়নি। তাই এখন ভরসা কপিতে। এখন পর্যন্ত কপিতে বড় কোনও রোগ আসেনি। আশা করছি, ভালো ফলন পাবো। তবে আশেপাশে এবার আগাম কপির আবাদ বেশি। দাম পাব কিনা তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।
মাত্র এক মাসেই লাল শাক চাষ করে লাভবান হয়েছেন রাজশাহীর কৃষকরা। বীজ রোপণের পর ২৫-৩০ দিনের মাথায় শাক বিক্রি করতে পারছেন কৃষক। ফলে অল্প সময়ে এখন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।
নগরীর সিটি হাট নওদাপাড়া এলাকার কৃষক আশরাফ আলী জানান, এখান শুধু লাল শাক নয়, অনেক রকমের শাক-সবজি অল্প সময়ে করা যায়। তবে কারণ লাল শাক চাষাবাদে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক কম। পবা উপজেলার হরিপুর এলাকার কৃষক মতিউর রহমান বলেন, জমি তৈরি, পানি, সার দেওয়া, দিন মুজুরির খরচসহ এক বিঘা জমিতে সব মিলে খরচ হচ্ছে ১২-১৩ হাজার টাকা। আর লাল শাক বিক্রি করছে ১৫-১৬ হাজার টাকা। তবে মাঝে মাঝে দাম বাড়লে আরও বেশি দামে বিক্রি করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা মাত্র এক মাসেই এই শাক বিক্রি করতে পারছি।
রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক শামসুল হক বলেন, এই লাল শাকের অনেকগুলো জাত রয়েছে। তবে লাল ও সবুজ শাক নামেই পরিচিত। সবচেয়ে বড় বিষয়ে মাত্র ২৫-৩০ দিনের মাথায় এই শাক বিক্রি করা যায়। জমি তৈরি বাদে বছরে ৮ বার এই শাক চাষ করা যায়। প্রতি বছর এক বিঘা জমিতে ৪০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় খরচ কম লাগে। কীটনাশক তেমন লাগে না। জমি তৈরির সময় ভালো করে সার দিলে অনেক ভালো হয়। তবে দুই-তিন দিন পরপর পানি দেওয়া লাগে।